ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) নিয়ে ডামাডোল যেন থামছেই না। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগ শুরুর কথা ঘোষণা করলেও, ক্লাবগুলোর অন্দরমহলে এখন শুধুই দুশ্চিন্তার ভাঁজ। মাত্র তিন মাসের একটি টুর্নামেন্টের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা নিয়ে মুম্বই, ওড়িশা বা চেন্নাইয়ের মতো বড় ক্লাবগুলো এখন আড়ালে-আবডালে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বেঙ্গালুরু এফসি-র কর্ণধার পার্থ জিন্দাল।
সম্প্রতি পার্থ জিন্দালের সংস্থা জেএসডব্লু (JSW) ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ভারতে আনার একটি ইভেন্টে জলের মতো টাকা খরচ করেছে। অথচ সেই মানুষটিই এখন তাঁর দলের ফুটবলারদের বেতন কমানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন। পার্থের দাবি, এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে হলে ফুটবলারদেরও ত্যাগের মানসিকতা দেখাতে হবে। আর তাঁর এই ‘দ্বিমুখী’ আচরণ নিয়েই এখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলাররা। তাঁদের সাফ কথা মেসির অনুষ্ঠানের জন্য যদি কোটি কোটি টাকা থাকতে পারে, তবে ঘরের ছেলেদের বেলায় পকেট কেন খালি হয়ে যাচ্ছে?
ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশের পর কোনো ক্লাবই সরাসরি ‘খেলব না’ বলার সাহস দেখাচ্ছে না। কারণ, একবার না বললে লিগের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী ওই দলকে সরাসরি আই-লিগে নামিয়ে দেওয়া হবে। এতদিনের বিনিয়োগ এক লহমায় ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাইছে না কোনো ম্যানেজমেন্টই। তাই মারাত্মক লোকসান জেনেও দলগুলো এক প্রকার বাধ্য হয়েই মাঠে নামছে। কিন্তু লিগের ফরম্যাট বা অন্যান্য খুঁটিনাটি নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে গত দু’দিন কোনো হেলদোল দেখা যায়নি, সবাই যেন এক অদ্ভুত নীরবতা পালন করছে। মজার ব্যাপার হলো, মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় দলগুলো কিন্তু এখনো পর্যন্ত ফুটবলারদের বেতন কাটার বিষয়ে টুঁ শব্দটিও করেনি। এই পরিস্থিতিতে কেবল বেঙ্গালুরু এফসি-র এই সিদ্ধান্তে ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলারদের বড় অংশই এই প্রস্তাবকে অপমানজনক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, গ্ল্যামার ইভেন্টে টাকা ওড়ানোর বদলে যারা মাঠে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে খেলেন, তাঁদের পাওনাটা আগে নিশ্চিত করা উচিত ছিল।







