সম্প্রতি একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। হায়দরাবাদে এক রিসেপশন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায় সাদা সিল্কের শাড়ি ও হল্টারনেক ব্লাউজে। ভিডিওতে শাড়ির আঁচল দিয়ে পেট ঢাকার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই দৃশ্য ঘিরেই সমাজমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়—৬৬ বছর বয়সে কি তবে মা হতে চলেছেন নীনা?
যদিও এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শাড়ির কাপড় মোটা হওয়ার কারণেই তাঁকে ওইভাবে দেখাচ্ছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকেই আবার আলোচনায় এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বেশি বয়সে কি সত্যিই মাতৃত্ব সম্ভব?
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে তা সম্ভব। গত কয়েক দশকে ভারতে একাধিক নজির রয়েছে যেখানে ৫০ কিংবা তার বেশি বয়সেও মহিলারা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। যেমন ২০০৮ সালে হরিয়ানার রাজো দেবী লোহান ৬৯ বছর বয়সে আইভিএফ পদ্ধতিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। আবার ২০১৬ সালে পাঞ্জাবের দলজিন্দর কৌর ৭২ বছর বয়সে মা হয়ে শিরোনামে এসেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে মাতৃত্বের জন্য শরীর সবচেয়ে উপযুক্ত থাকে। ৩৫ বছরের পর প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা দ্রুত কমতে থাকে। ৪০ পার করলে তা অনেক ক্ষেত্রেই হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি হিসেবে ধরা হয়। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমে যায়, পাশাপাশি গর্ভপাত বা জটিলতার আশঙ্কাও বাড়ে।
তবে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এই সীমাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আইভিএফ (In Vitro Fertilization), এগ ডোনেশন কিংবা এগ ফ্রিজিং-এর মতো পদ্ধতির মাধ্যমে অনেকেই দেরিতে মাতৃত্বের স্বাদ পাচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটিয়ে তৈরি ভ্রূণ পরে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, বয়স বাড়লে মাতৃত্বের আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, চিকিৎসা প্রযুক্তি মাতৃত্বের সম্ভাবনা বাড়ালেও বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।







