বিশ্ব

ইরানের কড়া বার্তা: মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব খারিজ, সামনে ১০ দফা কঠোর শর্ত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, তারা চাইছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো উত্তরে ইরান ১০ দফা বিস্তৃত শর্তের একটি কাঠামো তুলে ধরে জানায়, ভবিষ্যতে যাতে আর সংঘাত না বাড়ে, তার নির্দিষ্ট গ্যারান্টি চাই তারা।

ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের এই জবাব ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে। ইরান বলছে, শুধু তাদের ভূখণ্ডেই নয়—গাজা ও লেবাননেও সমস্ত লড়াই থামাতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সেই পথে যাত্রাকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের স্বীকৃতিও দাবি করেছে তেহরান।

এই উত্তরের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও পরিকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই পর্বেই এসেছে তেহরানের কঠোর জবাব।

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে আরও রয়েছে—

দেশের উপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার,

NPT চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে বহির্বিশ্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি,

এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া বিগত আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ।

কায়রোয় ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মোজতবা ফিরদৌসি পৌর জানান,
“আমরা কেবল যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা চাই যুদ্ধের সম্পূর্ণ ইতি—এবং পরিষ্কার নিশ্চয়তা যে আমাদের ওপর আর কোনও হামলা হবে না।”

অন্যদিকে, সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার “অনেক বিকল্প” রয়েছে। তাঁর মন্তব্য—আমেরিকা চাইলে সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসতে পারে, কিন্তু তাতে ইরানের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো “বহু বছরের ব্যাপার” হবে। একইসঙ্গে তিনি ফের জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।”

হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক সিবিএস নিউজ-কে জানান, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি শুধু “অনেকগুলির মধ্যে একটিমাত্র ধারণা”—এতে এখনও চূড়ান্ত সায় দেননি ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখনও চলমান।

বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করতে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি মিশর, তুরস্কও যুক্ত হয়েছে যোগাযোগ-রক্ষার গোপন প্রচেষ্টায়। এই দেশগুলির মাধ্যমেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে ইরানের শর্ত ও আমেরিকার অবস্থান—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনে কূটনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হতে চলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.