মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও, ভারতের ক্ষেত্রে আপাতত বড় কোনও সংকটের আশঙ্কা নেই বলেই আশ্বাস দিল কেন্দ্র। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটাতে চায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এই ঘোষণা।
কেন্দ্র সরকার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি ৩ ক্ষেত্রেই সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গ্রাহকদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান শহরে ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন ও গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন করা হয়েছে, যাতে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকে।এলপিজির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প উৎসের প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার জোরে নজরদারিও এখন অনেক বেশি কড়া। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ এলপিজি বুকিং অনলাইনে হয় এবং ৯১ শতাংশ ডেলিভারি ডিএসসি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। ফলে অনিয়ম বা কারচুপি ধরা অনেক সহজ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশের কোথাও গ্যাসের ঘাটতির কোনও সরকারি নথি নেই। ৭ এপ্রিল একদিনেই ৫৩.৫ লক্ষ গৃহস্থালি সিলিন্ডার সরবরাহের তথ্য তুলে ধরে পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে বহু সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত ও নিয়মভঙ্গকারী ডিস্ট্রিবিউটরদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র।







