জেলা

দুবরাজপুরে ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা: ইটের ঘায়ে রক্তাক্ত সিআরপিএফ জওয়ান, ভাঙচুর পুলিশের গাড়ি

বীরভূম: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অশান্তির ছবি ধরা পড়লেও, সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটল বীরভূমের দুবরাজপুরে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে পৌঁছতেই আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের উপর হামলা, ইটবৃষ্টি এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন মহলে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকার একাংশে হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল উত্তেজিত জনতা কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই হামলায় অন্তত ছ’জন সিআরপিএফ জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইটের আঘাতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট লাগে। আহত জওয়ানদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীই নয়, পুলিশের একটি গাড়িও এই হামলার শিকার হয়। দুষ্কৃতীদের একাংশ পুলিশের গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং সেটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনাস্থলে পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ভোটে রাজ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা সংখ্যার বিচারে প্রায় ২.৪ লক্ষ জওয়ানের সমান। এত বিশাল নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের হামলা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এইবার বাহিনী মোতায়েন অনেক বেশি হলেও, একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের অভিযোগ উঠছে।

পাল্টা অভিযোগও গ্রামবাসীদের
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কোনও প্ররোচনা ছাড়াই কিছু বাড়িতে ঢুকে সাধারণ মানুষকে মারধর করেন এবং ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। সেই ঘটনার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হামলা হয় বলে দাবি তাঁদের।

যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি।

কমিশনের তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল এবং নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কেন তা নিয়ন্ত্রণ করা গেল না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পরিস্থিতি এখনও থমথমে
দুবরাজপুর এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ও উদ্বেগের আবহ অব্যাহত।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.