ধর্মীয় ভিত্তিতে চালু থাকা সমস্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল । তাঁর বক্তব্য, চলতি মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলির সুবিধা মিললেও আগামী মাস থেকে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতায় থাকা সমস্ত সহায়তামূলক প্রকল্প প্রত্যাহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর ফলে পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের ভাতাও কার্যত বন্ধ হতে চলেছে।
নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব ‘ভাতা নয়, ভাতের ব্যবস্থা’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সংকল্পপত্রে কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মধ্যেই সেই অবস্থান স্পষ্ট করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু-র নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হত। চলতি বছরের মার্চ মাসে সেই ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় তোষণের রাজনীতি করতেই সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
নতুন সরকারের দাবি, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের ‘ধর্মভিত্তিক’ প্রকল্পে ইতি টানা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাতা ও অনুদান নির্ভর নীতির ফলে রাজ্যের অর্থনীতি চাপে পড়েছে বলেও মত শাসক শিবিরের একাংশের। বর্তমানে বিপুল ঋণের বোঝার মধ্যেও বিভিন্ন খাতে অনুদান বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ধর্মীয় বা উৎসবকেন্দ্রিক অন্যান্য অনুদান প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর ক্লাব অনুদান নিয়ে আগামী দিনে সরকার কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।







