প্রথমে হাউসপার্টি, তারপর রহস্যমৃত্যু। দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিনের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণ ও এক তরুণীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে তদন্ত। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসতেই একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দু’জনের পাকস্থলীতেই মদের উপস্থিতি মিলেছে। তবে মৃত্যুর আগে তাঁরা কোনও মাদক গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি স্পষ্ট করতে ভিসেরা-সহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশেষ ফরেনসিক দল। ফ্ল্যাট থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে মৃত তরুণীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, চন্দন পাসওয়ান এবং ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অঞ্জলি বঙ্গীরা। আলিপুর আদালত তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক রহস্যময় তথ্য। চিকিৎসকদের মতে, দুই জনের মৃত্যু একই সময়ে হয়নি। তরুণীর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে, আর তরুণের মৃত্যু ঘটেছে তার অনেক পরে। একই ফ্ল্যাটে এক জনের মরদেহের পাশে অন্য জন এতক্ষণ কীভাবে ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁরও কীভাবে মৃত্যু হল, সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
পুলিশের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে প্রায়শই হাউসপার্টির আয়োজন করা হতো। ঘটনার দিন সেখানে মোট পাঁচ জন উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটে নিয়মিত দামি মদ ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় সামগ্রীর ব্যবহার চলত। মৃত তরুণী রামগড়ের বাসিন্দা ছিলেন এবং ২০২৩ সালে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় লিভ-ইনে থাকতেন। পরে অঞ্জলি বঙ্গীরার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে গল্ফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন।
এখন পুলিশ শুধু মৃত্যুর কারণই নয়, ধৃত ও মৃতদের জীবনযাত্রার আর্থিক উৎসও খতিয়ে দেখছে। বেকার যুবক-যুবতীদের এই বিলাসবহুল জীবনযাপনের নেপথ্যে অন্য কোনও অপরাধচক্র সক্রিয় ছিল কি না, সেই দিকেও নজর তদন্তকারীদের। রহস্যমৃত্যুর এই জটিল মামলার উত্তর খুঁজতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে গল্ফগ্রিন থানার পুলিশ।







