দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মাত্র তিন দিনের মধ্যেই বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভে নিজের ফ্ল্যাটে খুন হওয়া অধ্যাপিকার হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস খুনের ছক কষা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা পাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে আলাদা হওয়ার পর তিনি পূর্ব দিল্লির সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একাই বসবাস করতেন। গত সপ্তাহে তাঁর বোন দেবারতি ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটে পৌঁছে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি হাতের শিরা কাটা ছিল। তবে ঘরের নগদ টাকা ও গয়না অক্ষত থাকায় প্রথম থেকেই ডাকাতির তত্ত্ব খারিজ করে দেয় পুলিশ।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরে এক দম্পতি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়ার গাড়িতে করে আবাসনে আসে। সন্দেহ এড়াতে তারা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় ওঠে এবং পরিচিত হওয়ার সুবাদে সহজেই অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। অভিযোগ, সঙ্গে আনা অস্ত্র দিয়েই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়। পরে পোশাক বদলে প্রায় আধ ঘণ্টা পর তারা আবাসন ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তদন্তে ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। চারটি রাজ্যে অভিযান চালায় পুলিশের সাতটি বিশেষ দল। শেষ পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, দেবস্মিতার দাদুর মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে একটি মূল্যবান সম্পত্তির মালিকানা তাঁর হাতে আসে। সেই সম্পত্তির ভাড়াটিয়া ছিলেন ধৃতরা। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অধ্যাপিকাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।







