দিল্লিতে সম্প্রতি আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হলেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। শান্ত স্বভাব ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকা এই শিল্পী এবার সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
মঙ্গলবার সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে অরিজিৎ লেখেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। নেতা-মন্ত্রীদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করলে তার জবাব একদিন দিতে হবে।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, পরিবর্তনই একমাত্র চিরন্তন সত্য এবং সবকিছুর হিসাব মানুষ মনে রাখে। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
শুধু প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি অরিজিৎ। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে তিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের মতামত জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সেই উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রকের সরকারি ইমেল আইডি শেয়ার করে তিনি অনুরোধ করেন, যাঁদের আপত্তি বা প্রশ্ন রয়েছে, তাঁরা যেন সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইমেল পাঠিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানান এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার সম্পর্কে জবাব চান।
অরিজিতের এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। বহু নেটিজেন তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন, একজন জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সামাজিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে মতামত জানাচ্ছেন অরিজিৎ সিং। কয়েকদিন আগেই সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি। ফলে সামাজিক ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ধারাবাহিক অবস্থান এবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
এদিকে, অরিজিতের এই পোস্টের পর শিক্ষা মন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।







