উদ্ধার অভিযান চলাকালীনই তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিকেল প্রায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পৌঁছে প্রথমে উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে উদ্ধারকর্মীদের কাছ থেকে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি নির্মাণকাজের দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, সে সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।
বন্দর এলাকার জমিতে নির্মীয়মাণ ওই চা-গুদামে বুধবার তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে ছাদের একটি বড় অংশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর দল। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক গ্যাস কাটার, ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে মোতায়েন করা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধায়ক রাকেশ সিং, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। অন্যদিকে নবান্ন থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি নিজে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং উদ্ধার অভিযানের খোঁজ নেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১২ থেকে ১৮ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরকদমে কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর—1070, 8697981070, 033-22143526 এবং 033-22535185।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্মাণকাজে একাধিক অনিয়ম ছিল। তাঁদের দাবি, যথাযথ অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।







