কেন্দ্র

এলএসি-তে কমল চিনা সেনা, স্বস্তির বার্তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরানোর বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি নিয়ে এল স্বস্তির খবর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে উত্তর সীমান্ত থেকে উল্লেখযোগ্য হারে সেনা সরিয়েছে চিন। যদিও এলএসি বরাবর ভারতীয় সেনার মোতায়েন একই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরের আলোচনার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা।

কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালজুড়ে ধাপে ধাপে এলএসি থেকে সেনা কমিয়েছে চিন। বর্তমানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রায় ১০টি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড সমান বাহিনী রয়েছে। তারা নিয়মিত টহলও চালাচ্ছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় সীমান্তে চিনা সেনার উপস্থিতি কমলেও সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাও ওই এলাকায় পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন রেখেছে। যে কোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ভারত।

সেনার দাবি, একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ফলেই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখে ২৩তম কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার পর থেকেই ধাপে ধাপে সেনা সরানোর পথে হাঁটে চিন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতিরও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত এক বছরে উপত্যকায় হিংসার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাথর ছোড়ার ঘটনা কার্যত শূন্যে পৌঁছেছে। বিক্ষোভের সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এই এক বছরে মাত্র একজন যুবক জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে অনুপ্রবেশের ছয়টি চেষ্টা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ জন কাশ্মীরি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র দু’বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬৩। এর মধ্যে ১২৪টি ঘটনা ঘটেছে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন।

পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে রিপোর্টে। ২০২৫ সালে মোট ৮৬৩টি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে ৯টি এবং রাজস্থানে ৮৫৪টি ড্রোন ঢোকার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনী ২৩৭টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তার মধ্যে ৭২টি ড্রোনে মাদক এবং পাঁচটিতে অস্ত্র ছিল। অভিযান চালিয়ে দু’টি AK-47, ৭৫টি পিস্তল এবং ২৮১ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.