গণেশ চতুর্থী এলেই সলমন খানের বাড়ির ছবি ও ভিডিয়োতে নজর থাকে অনুরাগীদের। প্রতি বছরই ধুমধাম করে গণেশপুজোয় অংশ নিতে দেখা যায় বলিউডের ‘ভাইজান’-কে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—মুসলিম পরিবারের সদস্য হয়েও কেন এত নিষ্ঠার সঙ্গে গণেশপুজো করেন সলমন? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন তাঁর বাবা, বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খান।
খান পরিবারের বাড়িতে গণেশপুজোর রীতি নতুন নয়। বাড়ির মূল দরজার কাছে থাকা গণেশমূর্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ। অনেকের ধারণা, সলমনের মা সলমা খান হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন বলেই এই রীতির সূত্রপাত। তবে সেই ধারণা ঠিক নয় বলেই জানিয়েছেন সেলিম।
তাঁর বক্তব্য, এই সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। ইন্দোরে তাঁর বেড়ে ওঠা এমন একটি এলাকায়, যেখানে অধিকাংশ প্রতিবেশী ছিলেন হিন্দু। ধর্মীয় পরিচয়ের বিভাজনের বদলে একে অপরের উৎসবে অংশ নেওয়া, খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং মিলেমিশে থাকার পরিবেশেই কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর।
সেলিম জানান, স্কুলেও তাঁর মুসলিম সহপাঠীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফলে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান তাঁর কাছে কখনও অপরিচিত ছিল না।
শুধু তাই নয়, নিজের বিয়েতেও দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন সেলিম খান। বৈদিক রীতিতে সাতপাকের পাশাপাশি নিকাহ্ও করেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উদার মানসিকতার সেই শিক্ষাই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এসেছে।
আর সেই পারিবারিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন দেখা যায় সলমনের গণেশপুজোয়। তাই প্রতি বছর গণেশ চতুর্থীতে খান পরিবারের এই উদযাপন শুধুমাত্র পুজোর আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতিরও এক ছবি।







