রাজনীতি

মমতার লড়াইয়ের পাশে অগ্নিমিত্রা, দলবদলুদের নিশানা! পাল্টা তোপ গণতান্ত্রিক তৃণমূলের

দলীয় কমিটি ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় সঙ্কট। শেষ পর্যন্ত দলের নাম হারানোর পাশাপাশি ‘জোড়াফুল’ প্রতীকও হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন পাওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয় অসন্তোষ ও ভাঙন। ক্রমে সেই ভাঙন আরও গভীর হয়ে তৃণমূলকে একাধিক শিবিরে ভাগ করে দিয়েছে। একসময় যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁদেরই অনেকে এখন তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ৪ মে-র আগের দিন পর্যন্ত যাঁরা মমতার হয়ে সরব ছিলেন, তাঁদেরই একাংশ পরবর্তীতে নতুন শিবিরে গিয়ে নতুন দল গড়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, অন্য দল থেকে নেতা-নেত্রীদের নিজেদের দলে টেনে নেওয়ার রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাত্রা দিয়েছিল তৃণমূলই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর তৎকালীন ঘনিষ্ঠ নেতারা দলবদলের এই কৌশলকে আরও ব্যাপক করে তুলেছিলেন বলেই মত তাঁদের।

এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, কঠিন সময়ে যাঁরা মমতার সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁরা মূলত সুবিধাবাদী। মমতার সঙ্গত্যাগীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে অগ্নিমিত্রা বলেন, “যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব?” তাঁর কথায়, এত দ্রুত তৃণমূলের অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে, তা তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি। রাজনীতিতে দম্ভ ও ঔদ্ধত্যকে মানুষ যে মেনে নেয় না, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সেটিও শিক্ষা নেওয়ার মতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অগ্নিমিত্রার কথায়, “আমরা অনেক সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছি, অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু সেটা যে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। এটা আমাদের কাছে শিক্ষনীয়। ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করা এবং মানুষকে সম্মান না দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, তা এখান থেকে শেখার আছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করেছিলেন, সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আজ যাঁরা তাঁর হাত ছেড়ে দিলেন, সেখান থেকেও একটা শিক্ষা রয়েছে। রাজনীতিতে লয়্যালটি কোথায় গেল? আজ ক্ষমতায় নেই বলে কি তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে হবে?”

অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, মন্ত্রী কেন তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এত চিন্তিত হয়ে পড়লেন? তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী UPA-তে যোগ দেন। সেই সিদ্ধান্ত যদি অন্যায় না হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, মমতা তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “এটা থেকে মানুষ বুঝবে, ইতিহাস কোনওদিন বেইমানদের ক্ষমা করে না। বেইমানরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই পড়ে থাকে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.