সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর প্রকল্প সরে যাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে যে শিল্পোন্নয়নের বড় ধাক্কা লেগেছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকালেও উল্লেখযোগ্য কোনও বৃহৎ শিল্প প্রকল্প গড়ে ওঠেনি। তবে প্রায় দু’মাস আগে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পায়নের গতি ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার শিল্প ও বিনিয়োগের বার্তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
সরকারি পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহও বেড়েছে শিল্পমহলের। গত তিন দিনে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একাধিক শিল্পপতি বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। জানা গিয়েছে, গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই পরিকল্পনার কথাই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি ফেসবুক পেজে এই সাক্ষাতের তথ্য প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি রয়েছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা দেয় তাদের সংস্থা। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, বৈঠকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা জানান, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তারা খতিয়ে দেখছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
এর আগে আদানি গোষ্ঠীর করণ আদানি এবং অশোক টোডিও নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে শিল্পমহলের একাংশের ধারণা। তাঁদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিল্প স্থাপনের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। সেই কারণেই একের পর এক শিল্পগোষ্ঠী এখন পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এদিনের নবান্ন সফরও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।







