একটানা ২১ ঘণ্টা বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার ভোররাতে রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এই মামলায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমনাকে। বাকিবুরের ১০০ কোটির সম্পত্তির খোঁজ পায় ইডি। দুবাই, বাংলাদেশে ব্যবসা রয়েছে বাকিবুরের। তাকে দফায় দফায় জেরা করেই রেশন বণ্টন দুর্নীতির সঙ্গে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে।
যদিও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতার হওয়ার পিছনে ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এদিন গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার’। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর পথে তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীর ষড়যন্ত্র’। যদিও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই অভিযোগের পাল্টা টিপ্পনি কেটেছেন বিরোধী দলনেতাও।”
রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় আগামী ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার কথা শুনে হঠাত্ই অসুস্থ হয়ে পড়েন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।সওয়াল জবাবের সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও আচমকা বসে পড়েন তিনি।কিছুক্ষনের মধ্যেই জ্ঞান হারান ধৃত মন্ত্রী।আদালত কক্ষের বাইরে তাঁকে একটি বেঞ্চে বসানো হয়।পরে বিচারকের বাতানুকূল চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। আনা হয় কলকাতা পুলিশের অ্যাম্বুলান্স।
সন্ধ্যা সওয়া ছটা নাগাদ ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে বের করে এসি অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আপাতত ধৃত মন্ত্রীর চিকিত্সা চলবে।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ইনফো-কার্ড পোস্ট করে তিনি লেখেন, “এরপর হয়তো মন্ত্রিসভার বৈঠক ও বিধানসভার অধিবেশন জেলের মধ্যে ডাকতে হবে।”






