রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্টের আওতায় রাজ্যের ৮০,৩৮৫টি সরকারি স্কুলের অ্যাকাউন্টে মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলেই নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি স্কুলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
সরকার জানিয়েছে, এই কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্টে ৬০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে এই অনুদান না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল বহু স্কুল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, রাজ্যে পিএম শ্রী স্কুলের সংখ্যা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি শীঘ্রই রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক ও অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধাপে ধাপে ডিএ-র ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে এবং পুজোর আগে বেতনের সঙ্গে ডিএ যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে রাজ্যের বহু স্কুলে এখনও বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার অভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছে সরকার। এই সমস্যার সমাধানে বিশেষ পাইলট প্রকল্প শুরু করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, মিড-ডে মিল রান্নার কর্মীদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হবে। তবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ডিম সরবরাহের দায়িত্ব আগের মতোই রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়োগে স্বচ্ছতা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।







