একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার হোয়াটসঅ্যাপে, নোটিফিকেশন টিং টিং করে মেসেজ ঢুকতেই থাকছে। চেনা পরিচিত সবাই আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে এই ভিডিওতে যে মেয়েটি বা ছেলেটি সেটা কি আপনি? ভিডিওটা দেখামাত্র, আপনিও অবাক ওখানে কখন গেলেন বা ওই ভিডিও আপনি কখন বানালেন? আপনিও হতভম্ব হয়ে যাবেন। তাহলে কি এই ভিডিওটিতে আপনার যমজ বোন বা ভাই। ভিডিওটি নেগেটিভ উদ্দেশ্যে তৈরি করা। ওই ভিডিওটিতে আপনার মুখ রয়েছে, তবে আসলে ভিডিওটি আপনার নয়, এরকম চোখ রাঙানি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) “Deepfake” যেখানে, যেমন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা ভিডিও, ছবি গলার আওয়াজ হুবহু নকল করা যায়। যেখানে আমার আপনার মত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি ভিডিও নিয়ে নকল ভিডিও বানিয়ে বদনাম বা আরও অনেক কিছুর উদ্দেশ্যে ভাইরাল করা হচ্ছে। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরালের ট্রেন্ডিং এত চলছে যেখানে কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক তার যাচাই না করে হুড়োহুড়ি করে লাইক শেয়ার কমেন্টস এর দৈত্য এসে হানা দিচ্ছে।
তবে এই “Deepfake” যেভাবে বিশ্বের বড়ো বড়ো নামকরা নেতাদের ফেক ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পেশ করছে। তাতে সাধারণ মানুষ তো বহু পরের বিষয়। এরকম “Deepfake” ভিডিও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি, ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশের বড়ো বড়ো নেতাদের ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হচ্ছে।
যা মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে ফলে বৈদেশিক অশান্তি এবং যুদ্ধের মতন পরিস্থিতির সম্ভাবনা বাড়ছে।
তবে এই AI জেনারেট “Deepfake” থেকে বাঁচতে অনেক দেশ যেমন রাশিয়া, চাইনা, নর্থ কোরিয়ার মতো দেশ AI টুল দেশে নিষিদ্ধ করেছে।
তবে ভারতে এখনো পর্যন্ত ব্যাপক ব্যবহার চলছে AI টুলের। ডিজিটাল অজ্ঞতার কারণে, বহু ক্ষেত্রে এইসব “Deepfake” ভিডিও দ্বারা ইনফ্লুয়েন্স হয়ে অনেক রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
AI টুল দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর গলায় যেকোনো গান নিমিষেই তৈরি করে, লক্ষ লক্ষ ভিউস নিয়ে আসছে। অনেক মানুষ আছেন যারা এই “Deepfake” ভিডিও বা AI এর সাথে পরিচিত নয়। তাঁদের পক্ষে নরেন্দ্র মোদীর গানটি গাইছেন।
অর্থাৎ তাদের পক্ষে আলাদা করা সম্ভব হয় না। AI এর অত্যন্ত আধুনিক টুল দিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।
তবে AI যতটা এন্টারটেইনমেন্টর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে তার থেকে দ্বিগুণ অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশ্মিকা মন্দনা দৃষ্টিকটু একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ভিডিওটি একটি অন্য জনের।
সত্যিই আজ এই টেকনোলজির দুনিয়ায় কোনটি ঠিক কোনটি ভুল বুঝতে আরও ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজন যাতে এই রকম “Deepfake” ভিডিও, অসত্য বা রি- ক্রিয়েট ভিডিও হিসেবে মানুষ বুঝতে পারে। যেখানে প্রতারণা কম হয়।
তাছাড়া সব কর্ম ক্ষেত্রে তো বটেই, সাংবাদিকতাতেও ‘AI’ তার দক্ষতা দেখিয়েছে। ‘লিসা’ AI দিয়ে তৈরী, দেখে বোঝার উপায় নেই, যে তার কোনো অস্তিত্বই নেই পৃথিবীতে।
এই ভাবে AI এর চোখ রাঙানিতে গোটা বিশ্ব চিন্তিত।







