বিশ্ব

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বড় চুক্তির পথে আমেরিকা? দাভোসে ন্যাটোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর পিছু হটলেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা তুমুল উত্তেজনার মাঝে হঠাৎ করেই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকের পরই ট্রাম্পের এই ভোলবদল দেখা গেল।

নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশাল এ ট্রাম্প নিজেই এই নাটকীয় মোড় সম্পর্কে আভাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, গোটা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে দুই পক্ষ একমত হতে পেরেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শীঘ্রই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি বড়সড় চুক্তি হতে চলেছে। যদিও সেই চুক্তির শর্তাবলি ঠিক কী বা কবে নাগাদ তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি। দাভোসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আবারও তাঁর গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছাকে স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “আমি চাই বিশ্বের এই বৃহত্তম দ্বীপটির পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে আসুক। তবে এর জন্য আমি কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের পথে হাঁটব না।” একইসঙ্গে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকা যেভাবে ইউরোপকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে, সেই তুলনায় গ্রিনল্যান্ডের দাবিটি খুবই সামান্য। আমেরিকার এই সম্প্রসারণবাদী নীতিতে ন্যাটোর বাধা দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব বাজারে যে বড়সড় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল। কূটনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে ট্রাম্প এখন আলোচনার টেবিলে বসেই গ্রিনল্যান্ড হাসিল করতে চাইছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.