সরকারী নিয়ম মেনে রাইস মিল তৈরি হলেও নিয়ম না মেনেই কারবার করছেন রাইস মিল মালিকরা এমনই অভিযোগ তুলছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীরা জানান সারা বছরই স্থানীয় মিলের ছাই বা পাঁস ওড়ে। কিন্তু শীত পড়ার শুরু থেকেই উত্তরের হওয়ায় প্রচণ্ড পরিমাণে পাঁশ উড়ে এসে পড়ে গোটা গ্রামে। এমনকি বাড়ির বারান্দায় খাবার খেতে বসলে খাবারে পড়ে মিলের উড়ে আসা পাঁশ,আর সেই কারণেই ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো গ্রামবাসী।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়ড় গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়োগোপীনাথপুর গ্রামের ঘটনা। বড়োগোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভ্রা মণ্ডল,নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়,প্রশান্ত হড় সহ অন্যান্যরা জানান শীত শুরু হলেই উত্তরের হওয়া বইতে থাকে।বর্ধমান – বোঁয়াইচণ্ডী রাস্তার দুই দিকে রয়েছে প্রচুর রাইস মিল।সরকারি নিয়ম মেনেই তৈরি হয়েছে রাইস মিল,কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনে ব্যাবসা করছেন না বেশির ভাগ রাইস মিল মালিকরা।বেশির ভাগ মিলেই দুই থেকে তিন শিফট করে ধান সেদ্ধ বা ভাপাই এর কাজ হয়। ফলে দিন রাত ওড়ে পাঁশ।বসত বাড়ির জানালা এমনকি দরজা বন্ধ করে রাখতে হয় সারাদিন সারারাত। সঙ্গে তো রাইস মিলের পচা জলের গন্ধ আছেই। পথ চলতি মানুষের চোখে উড়ে পড়ে পাঁশ। জমির ধান নষ্ট হচ্ছে রাইস মিলের পচা জলে।
গত বৎসর গ্রামবাসীরা আন্দোলন এবং সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করাতে রাইস মিলারদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন খণ্ডঘোষ ব্লকের বিডিও এবং যুগ্ম বিডিও। তদন্তও করেছিলেন আধিকারিকরা।তিন চার মাস ধরে পাঁশ ওড়া বন্ধও হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আবারও সেই একই সমস্যা। সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণে অনুরোধ বড়োগোপীনাথপুর গ্রামবাসীদের। শিল্প হোক,ব্যাবসা বাণিজ্য হোক কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষতি না করে হওয়াটাই বাঞ্চনীয় বলে মত প্রকাশ স্থানীয় মানুষজনের। খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়ড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাজাহান মণ্ডল বলেন,গতবছর পঞ্চায়েতে এবং বিডিও অফিস অভিযোগ জানিয়েছিল গ্রামবাসীরা,সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রাইস মিলারদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল বিডিও অফিসে,তারপর তদন্ত করে দেখার পর পাঁশ ওড়া বন্ধ হয়েছিল।গ্রামবাসীরা এই বৎসর এখনও পর্যন্ত্য কোনো রকমের অভিযোগ জানায় নি। অভিযোগ এলে যথাযত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং যাতে করে পাঁশ ওড়া বন্ধ হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।







