দুর্গাপুজো শুরুর আগেই রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি ঘিরে। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের নেতৃত্বাধীন এই বিখ্যাত পুজো এবছর আয়োজন করেছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ থিমে। থিম ঘোষণার পর থেকেই সমিতি পরপর চিঠি পাচ্ছে মুচিপাড়া থানার তরফে।
ইতিমধ্যেই ১৪ মে, ১২ জুন, ১৫ জুলাই এবং ৯ সেপ্টেম্বর চার দফায় নির্দেশিকা পাঠিয়েছে পুলিশ। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—মণ্ডপে প্রবেশ ও নির্গমনের জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে, পার্ক চত্বরে কোনও হকার বা স্টল বসানো যাবে না, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো নিষিদ্ধ, অন্তত ৬০টি সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে, এবং ২৫০ জন প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার মোতায়েন করতে হবে। এছাড়া মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় বিজ্ঞাপনী গেট বা কোনও জয় রাইডের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার কলকাতায় এসে এই পুজোর উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উদ্বোধনের পর চতুর্থীর সন্ধ্যায় উপচে পড়া ভিড় জমে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে। তবে সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, “পুলিশি জুলুম এতটাই বাড়ছে যে মানুষকে মণ্ডপে ঢুকতেই অসুবিধা হচ্ছে। যেখানে সেখানে ব্যারিকেড বসিয়ে দর্শনার্থীদের আটকানো হচ্ছে। এভাবে কতদিন পুজো চালাতে পারব, সন্দেহ।”
যদিও কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, “এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।”
রাজনৈতিক মহল বলছে, পুজো মঞ্চকে ঘিরেই ফের রাজনীতি সরগরম। সজল ঘোষ প্রতি বছরই এই পুজোকে রাজনৈতিক আবহ থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবছর থিম থেকে শুরু করে পুলিশের বিধিনিষেধ—সবকিছুই যে রাজনীতির রঙে রঙিন হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।







