২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই চারিদিকে চলছে জোর চর্চা। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। তবে বর্তমানে ৩৪ বছরের শাসনের সিপিএম কার্যত বঙ্গের ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। এবার সেই আবহাওয়ার মধ্যেই সিপিএম নেতা ঘোষণা করল নয়া দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলের। তবে কি কারনে ২৬ এ নির্বাচনের আগেই এই দল গড়ে উঠছে? সেই বিষয়টাই স্পষ্ট করলেন সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য মোহাম্মদ সেলিম।
২৪ এর হাই ভোল্টেজ লোকসভা নির্বাচন শেষ হতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলির ঝাঁপিয়ে পরেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসতে চলেছে নতুন সমীকরণ। লোকসভা নির্বাচন হোক কিংবা রাজ্যের উপনির্বাচন সব জায়গাতেই কার্যত ভরাডুবি হয়েছে সিপিএমের। তবে ২৬ এর নির্বাচনে নিজেদের জায়গা পাকা করতে ময়দানে নেমে পরেছেন তারা।
তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পুরো সমীকরণটাই বদলাতে চলেছে বলে সংকেত দিলেন সিপিএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম। প্রথমেই তিনি বিজেপি ও তৃণমূলকে একই সারিতে ফেলে আক্রমণ করেন। তারপরেই গেরুয়া শিবির ও জোড়া ফুল শিবিরের ভেতরে আঁতাত আছে বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তিনি। তারপরেই তিনি ঘোষণা করলেন দক্ষিণপন্থী একটি নতুন দল সামনের বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন।
এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, ‘গত দু-তিন মাস ধরে জানানো হয়েছে, আরও একটা নতুন বামপন্থী দল তৈরি করতে হবে। এমনকি ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল। দেখা গেল কিছুই হল না। অনেকেই বলছিল, বিজেপির উত্থান হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস একটা দক্ষিণপন্থী দল। তাদের মধ্যেই একটা সাজানো বিরোধী এবং সরকারি দল আছে। এবার দল তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা পড়েছে। আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আর একটা দক্ষিণপন্থী দল তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। যারা নিজের দলে পাত্তা পাচ্ছে না, সেটা তৃণমূল হোক কিংবা বিজেপি। সেসবের পাত্তারি গোটালে কি হবে, তার একটা বিকল্প ভেবে রাখা হচ্ছে। আবার যাতে পাত্তা পাওয়া যায়, তার জন্য ব্ল্যাকমেইল করা যায় কিনা, সে চেষ্টাও করছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। সেই দলে ছিলেন শাসকদলের বহু নেতা, মন্ত্রীও। আবার পরে দেখা গিয়েছিল বিজেপিতে অনেকের দমবন্ধ হল। ২৬ এর ভোটে একই ছবি দেখা যাবে। তারা তৃণমূলে চলে এল। এবার নতুন দল দানা বাঁধবে।’







