চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে আট রানে পরাজিত করে আফগানিস্তান নতুন ইতিহাস গড়ল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৩১৭ রানে অলআউট হয়। জো রুট দুর্দান্ত ১২০ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারেননি। আফগানিস্তানের পক্ষে আজমাতুল্লাহ ওমারজাই পাঁচ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এই জয়ে আফগানিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকল, অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে বিদায় নিতে হলো গ্রুপ পর্ব থেকেই।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটে দল ঘুরে দাঁড়ায়। ১৪৬ বলে ১৭৭ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন তিনি, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তার সঙ্গে ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ নবি (৪০) ও আজমাতুল্লাহ ওমারজাই (৪১)। ইংল্যান্ডের হয়ে জোফ্রা আর্চার তিনটি উইকেট নেন।
৩২৬ রানের জবাবে ইংল্যান্ড শুরুটা ভালো করলেও মিডল অর্ডারে ধাক্কা খায়। তবে জো রুট একাই দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন। তার ১১১ বলে ১২০ রানের লড়াকু ইনিংস ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখালেও শেষ দিকে আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের দারুণ স্পেলে সব আশার সমাপ্তি ঘটে। ৯.৫ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ১০ রান দরকার ছিল, কিন্তু ওমারজাইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ৮ রানে ম্যাচ হেরে যায় ইংল্যান্ড।
২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে হারের স্মৃতি ভুলতে পারেনি ইংল্যান্ড, আর ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই স্মৃতি আরও গাঢ় হলো। পরপর দুটি আইসিসি টুর্নামেন্টে আফগানিস্তানের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো ইংল্যান্ডকে। অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক জয় আফগানিস্তান ক্রিকেটের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ইব্রাহিম জাদরান, যিনি ম্যাচের পর বলেন, “আমি জানতাম এই উইকেটে টিকে থাকলে বড় রান সম্ভব। আমার ইনিংস দলকে জেতাতে পেরে গর্বিত।”
এখন আফগানিস্তানের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা আরও এক বিস্ময়ের অপেক্ষায় থাকবে।






