দেশ

সিকিম সরকার কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলল, কেন্দ্রকে চিঠি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর

বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা এবার উঠে এল বিতর্কের কেন্দ্রে। পর্বতারোহণের জন্য বহু অভিযাত্রী প্রতি বছর এই শৃঙ্গে ওঠার উদ্যোগ নিলেও, এবার এই পর্বতের আরোহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানাল সিকিম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ চাইলেন।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিকিমবাসীর কাছে মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধুমাত্র একটি পর্বত নয়, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র শৃঙ্গ, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে গভীর ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সম্প্রতি নেপালের দিক দিয়ে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস’ (NIMAS)-এর পাঁচ সদস্যের একটি দল ১৮ মে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ করে, যা সিকিমের আদিবাসী জনগণের ভাবাবেগে আঘাত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী তামাং তাঁর চিঠিতে লেখেন,”মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা সিকিমের মানুষের কাছে সবচেয়ে পবিত্র শৃঙ্গ। এর নামের অর্থ ‘বরফের পাঁচটি ধন’, যা পাঁচটি ঐশ্বরিক সম্পদের প্রতীক। সিকিমের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধন শুধুমাত্র পৃথিবী যখন চরম সংকটে পড়বে তখনই প্রকৃত ভক্তদের সামনে প্রকাশিত হবে।” তিনি আরও জানান, সিকিমের প্রধান রক্ষাকর্তা দেবতা ‘জোয়ে-ঙ্গা’র বাসস্থান হিসেবেও কাঞ্চনজঙ্ঘাকে পূজিত করা হয়। এই দেবতাকে ‘ফো-ল্হা’ নামে ডাকা হয় এবং তাঁকে সিকিমের সমস্ত অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রধান রূপে বিবেচনা করা হয়। গুরু ঊরগ্যেন রিনপোচে, যিনি গুরু পদ্মসম্ভব নামেও পরিচিত, তিনিই এই দেবতাদের ‘ভূমির রক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী তামাং কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন, যেন নেপাল সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর কথায়,”এই সিদ্ধান্ত সিকিমের মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নেওয়া উচিত।” সিকিম সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এবার আন্তর্জাতিক মহলেও কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.