জেলা

পাঁশকুড়ায় সম্পত্তি বিবাদ ঘিরে একঘরে পরিবার

পাঁশকুড়ার রাধাবল্লভপুরে মধ্যযুগীয় চিত্র! নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি গ্রামবাসীদের লিখে না দেওয়ায় একঘরে করে দেওয়া হলো একটি পরিবারকে। অভিযোগ, শুধু একঘরে করাই নয়, চলেছে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি—সব মিলিয়ে আতঙ্কে ঘরছাড়া সঞ্জয় কালসার পরিবার।

সঞ্জয় পাঁশকুড়া থানায় দায়ের করেছেন একটি এফআইআর। তাঁর দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রামবাসীরা তাঁদের সম্পত্তির একটি অংশ দাবি করে। তাঁরা সেই দাবি না মানায় শুরু হয় হামলা ও হুমকি। দোকানে যেতে বাধা, চিকিৎসার সুযোগে বাধা, এমনকি শিশুদের স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় গ্রামবাসীরা। গত ২৬ মে তাঁরা বাড়ি ফিরতে চাইলে ফের হামলা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন সঞ্জয়ের বাবা হরেকৃষ্ণ কালসা—বর্তমানে হাসপাতালে।

চাঞ্চল্যকরভাবে, এই ঘটনায় নাম রয়েছে সদ্য নিযুক্ত তৃণমূল জেলা সভাপতি সুজিত রায় ও স্থানীয় নেতা কৃষ্ণপদ খাঁ-র। যদিও অভিযুক্ত গ্রাম কমিটির সদস্য দাবি করছেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা, এটা স্রেফ পারিবারিক বিবাদ।”

তবে সঞ্জয়ের পক্ষ বলছে, তৃণমূল নেতাদের মদতেই চলেছে এই অমানবিক অত্যাচার। পাল্টা তৃণমূল দাবি করছে—বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক। সঞ্জয় নাকি বিজেপি কর্মী, তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেলা সভাপতিকে কালিমালিপ্ত করতে এই অভিযোগ।

বিজেপি অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “এটা গ্রামকেন্দ্রিক সমস্যা। তৃণমূল ওখানে জনভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে বলেই এই ঘটনা ঘিরে রাজনীতি করছে।”

ঘরছাড়া পরিবারটির একটাই আবেদন—“আমরা যেন নিরাপদে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারি।”

এই ঘটনাই তুলে দিচ্ছে প্রশ্ন—রাজনীতি না কি সামাজিক নিপীড়ন? উত্তর খুঁজছে পাঁশকুড়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.