ভারত – আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত বন্ধুত্ব আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এক সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন, ভূকৌশলগত দিক থেকে ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে দেখে আমেরিকা। তার কয়েকদিনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা প্রবল।
এই মন্তব্যের পেছনে কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, একদিকে যেমন ভারত – আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে, অন্যদিকে চিন- পাকিস্তান-বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন জোট তৈরির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখাটাই হোয়াইট হাউসের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ক্যারোলিন বলেন, “এই অঞ্চলের ভূকৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পর্কও খুবই ইতিবাচক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
তাঁর কথায়, ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট এবং বাণিজ্য সচিবের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এখন চুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। শর্তাবলি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বিষয়ে ঘোষণা করবেন।
সূত্র অনুযায়ী, ভারত এবং আমেরিকা দু’পক্ষই বাণিজ্যিক চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে একমত হয়েছে। ভারতের তরফে বাণিজ্য বিভাগের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আশা করা হচ্ছে, ৮ জুলাইয়ের মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
চুক্তির আওতায় ভারতের রপ্তানি করা বস্ত্র, গয়না, চামড়া, প্লাস্টিক, রাসায়নিক দ্রব্য, চিংড়ি, তৈলবীজ ও ফলের ওপর আমেরিকান কর কমানো হতে পারে। বিপরীতে, আমেরিকার পক্ষ থেকেও ইলেকট্রিক যান, অ্যালকোহল, এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপর ভারতের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা হওয়ায় এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, চিনের কৌশলগত আগ্রাসনের মোকাবিলায় ভারত-আমেরিকা মৈত্রী এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে।







