লোকসভায় ফের উত্তাল রাজনৈতিক আবহ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে দাঁড়ালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কড়া বার্তা দিলেন পাকিস্তানকে, কংগ্রেসকে তুলোধনা করলেন দেশদ্রোহের ইঙ্গিতে। জানালেন, “পাকিস্তানের ডিজিএমও ফোন করে বলেছিলেন—আর মারবেন না, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। রেহাই দিন।”
সোমবারের পর মঙ্গলবারও ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে লোকসভায় উত্তাপ অব্যাহত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের পরই মঞ্চে আসেন মোদি। শুরুতেই ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে ‘সিঁদুর অভিযানে’ পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ২৬ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতা। বলেন, “সেই হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারান। আমি স্পষ্ট বলেছিলাম, জঙ্গিদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে। সেইমতো ২২ এপ্রিল বিদেশ থেকে ফিরে সেনার সঙ্গে বৈঠকে কড়া সিদ্ধান্ত নিই।” জানালেন, অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রের ‘দৃঢ় সংকল্প’-এর প্রতিফলন।
মোদি দাবি করেন, “আমাদের সেনা এমন প্রত্যাঘাত করেছে, যার ঘুম আজও পাকিস্তানের উড়ে গিয়েছে। তারা পরমাণু হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ৬ মে রাতে এবং ৭ মে ভোরে ভারত যা স্থির করেছিল, তাই করেছে। পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২২ এপ্রিলের বদলা ২২ মে নিয়েছে ভারত।”
সেইসঙ্গে মোদি কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, “জঙ্গি হামলার পরেও কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে ৫৬ ইঞ্চির ছাতি নিয়ে। ওদের কথায় সেনার মনোবল ভেঙে যায়। বিদেশের মিথ্যে প্রচার কংগ্রেস এখানে ফেরায়। সীমান্তে লড়াই করছে সেনা, আর এখানে করছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
বিদেশনীতি নিয়েও বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে মোদি বলেন, “১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র তিনটি পাকিস্তানের পাশে ছিল। বাকিরা আমাদের সমর্থন করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, দেশের বীরদের পাশে দাঁড়ায়নি কংগ্রেস।”
অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, “এই অভিযানেও আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল—যেখানে পহেলগাঁও হামলার ছক কষা হয়েছিল, যেখানে অস্ত্র মজুত ছিল, সেখানেই আঘাত করা হয়েছে। ১০০ শতাংশ লক্ষপূরণ হয়েছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের কোণে কোণে আঘাত হেনেছে। তারা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেই বলেছে, ‘আমরা সুইমিং পুলে ছিলাম, ভারত হামলা চালিয়ে দিয়েছে।’ শেষপর্যন্ত পাকিস্তানের ডিজিএমও ফোন করে অনুরোধ করে, আর যেন হামলা না হয়। এটা ভারতের নীতি, যা সেনার সাহস ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমন্বয়ে গঠিত।”
উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে। পাল্টা হামলায় পাকিস্তান ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করলেও, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করে। পরবর্তীতে পাল্টা ভারতের বিমান হামলায় কাঁপে ইসলামাবাদ। অবশেষে ১০ মে, দুই দেশের ডিজিএমও-র বৈঠকে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।







