নতুন করে বাণিজ্য জটিলতায় জড়াচ্ছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক। এবার সরাসরি ভারতীয় রপ্তানিপণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাল আমেরিকা। আর তারই প্রভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করতে চলেছে অ্যামাজন, এমনটাই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। শুধু অ্যামাজনই নয়, ওয়ালমার্ট, টার্গেট এবং গ্যাপের মতো আমেরিকান সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যাচ্ছে।
মূল কোপটা পড়ছে ভারতীয় বস্ত্র রপ্তানির উপর। আমেরিকায় ভারত অন্যতম বড় বস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সূত্র বলছে, বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রের উপর ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করছে মার্কিন প্রশাসন। যার ফলে ওই পণ্যের মার্কিন বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ। এর জেরে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কা ব্যবসায়ী মহলের।
এই শুল্কবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণও। বুধবার একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, ২১ দিনের মধ্যে নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে। তাঁর অভিযোগ, ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। তাই ‘শাস্তিস্বরূপ’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্ডারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ভারত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। অতএব, তাদের উপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা জরুরি।”
এই পরিস্থিতিতে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে ভারত। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কমবে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের। অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ীই এত উচ্চ হারে শুল্ক দিয়ে পণ্য পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফলে রপ্তানি হ্রাস পেলে এর প্রভাব সরাসরি ভারতীয় অর্থনীতির উপর পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে ভারতীয় বা মার্কিন কোনও সরকারি স্তর থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।







