দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে শুরু হলো বহুল আলোচিত এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া। নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং গ্রুপ-সি নিয়োগ– এই তিনটি মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে আলিপুরের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে বিচারপতি বিশ্বরূপ শেঠের এজলাসে।
প্রথম দিনেই আদালতের নজর কাড়েন সিবিআইয়ের বিশেষ সাক্ষী, এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মন্ডল। তিনি জানান, ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন। পাশাপাশি ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। তবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে বেআইনি নিয়োগের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায় সরাসরি তাঁকে অবৈধ নিয়োগে চাপ দিতেন।
চিত্তরঞ্জন মন্ডল এদিন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না এনে রীতিমতো তাঁকে ক্লিনচিট দেন। পাশাপাশি জানান, ২০১৩ সালে তিনি কোনো কারণ না দেখিয়েই পদত্যাগ করেছিলেন।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে হাজির ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মামলার প্রথম দিনেই তাঁর ও মুকুল রায়ের নাম উঠতেই আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করেন চিত্তরঞ্জন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়েছিলেন তিনি। এর পরেই বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। প্রথম দিনের শুনানির সাক্ষ্যে স্পষ্ট হয়েছে মামলাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব। এখন শুধু দেখার আগামী শুনানিতে এই বহুল আলোচিত নিয়োগ মামলার জল কোন দিকে গড়ায়।







