মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অশান্তি এখন স্পষ্টভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে শুরু করেছে। ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের আবহে শনিবার ভোরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রধান শহর Dubai-জুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খালি করে দেওয়া হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন Burj Khalifa।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু দেখা যায় এবং পরপর বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে শহরের বহু অংশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু ভবনের কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসিন্দাদের মধ্যে।
হামলার সূত্রপাত
শনিবার সকালেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের রাজধানী Tehran-এ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই পাল্টা হামলার আশঙ্কাতেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়।
উপসাগর জুড়ে উত্তেজনা
সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে উপসাগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও।
Abu Dhabi-তে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক এশীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
Doha জানিয়েছে, তারা আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
Riyadh-তেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি “অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার উত্তেজনা” তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে।
তেহরানে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি
ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Amir Nasirzadeh এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কর্পস-এর (Islamic Revolutionary Guard Corps) শীর্ষ কমান্ডার Mohammad Pakpour।
যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ এখনও সম্ভব হয়নি।
এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাকে ইজরায়েল ‘ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি’ বলে উল্লেখ করেছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা
বাহরিনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজানো হয়। কাতার জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
পরিস্থিতি এখন স্পষ্টতই ইরান–ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে বিস্ফোরণ এবং বুর্জ খলিফার মতো প্রতীকী স্থাপনা খালি করে দেওয়ার ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিগর্ভ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে — যেখানে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র শুধু সামরিক লক্ষ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতিক ভারসাম্যকেও কাঁপিয়ে দিচ্ছে।







