কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় সামনে এল আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ। ধসে আহত শ্রমিক মুস্তাকিন গায়েন দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার আগেই গোটা কাঠামো কাঁপছিল। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের জানানো হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাসন্তির বাসিন্দা মুস্তাকিন গায়েন জানান, দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই তাঁরা ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনে কাজ করছিলেন। ঘটনার দিনও লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই চলছিল। কাজের মাঝেই তাঁরা অনুভব করেন, গোটা কাঠামো অস্বাভাবিকভাবে দুলছে।
মুস্তাকিনের দাবি, শ্রমিকরা ইঞ্জিনিয়ারদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, দুই দিক থেকে পর্যাপ্ত সাপোর্ট না থাকায় কাজ করতে ভয় লাগছে এবং বিল্ডিং কাঁপছে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা বুঝতে পারছিলাম কোথাও ভুল হচ্ছে। নিচ থেকে ঢালাই করলে হয়তো এমন বিপদ হত না। মাথার দিক থেকে ঢালাই হওয়ায় কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছিল।”
ঘটনার সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক বিভিন্ন তলায় কাজ করছিলেন বলে জানান তিনি। ছাদ ভেঙে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। মুস্তাকিন নিজেও প্রায় চার ঘণ্টা আটকে ছিলেন। ভিতর থেকে চিৎকার করলেও প্রথমদিকে কেউ তাঁদের আওয়াজ শুনতে পাননি বলে দাবি তাঁর।
পরে উদ্ধারকারী দল ধীরে ধীরে লোহার বিম কেটে তাঁকে এবং অন্যদের বাইরে বের করে আনে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।
তবে আহত শ্রমিকের এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে ধসের নেপথ্যে নির্মাণে গাফিলতি, নকশাগত ত্রুটি, নাকি অন্য কোনও কারণ দায়ী ছিল।







