বিদ্যুতের বিলের হিসাব এবার বদলে যেতে পারে সময়ের সঙ্গে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতে—কখন বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তার উপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হতে পারে মাশুল। কেন্দ্রের নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি কার্যকর হলে দেশজুড়ে চালু হতে পারে ‘টাইম অব ডে’ বা TOD ট্যারিফ।
চলতি বছরেই নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। নীতির খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের জন্য আলাদা মাশুল দিতে হতে পারে গ্রাহকদের।
বর্তমানে সাধারণত দিনের যে সময়েই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হোক, নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ীই ইউনিটের দাম নির্ধারিত হয়। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে—পিক আওয়ার, অফ-পিক আওয়ার এবং স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থাকবে পিক আওয়ার। এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় ইউনিটের মাশুলও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত অফ-পিক আওয়ার। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় মাশুলও কম হওয়ার কথা। আর সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে স্ট্যান্ডার্ড আওয়ার।
এর ফলে বাড়ির দৈনন্দিন কাজের সময়েও বদল আনতে হতে পারে। যেমন জল তোলার পাম্প, ওয়াশিং মেশিন, গিজার, মাইক্রোওভেনের মতো তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন যন্ত্র অফ-পিক সময়ে ব্যবহার করলে বিল কিছুটা কম রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ধরনের সময়ভিত্তিক মাশুল ব্যবস্থা আগে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সর্বত্র বাস্তবায়িত হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গেও TOD ট্যারিফ চালুর পরিকল্পনা থাকলেও স্মার্ট মিটারের পরিকাঠামো পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় নীতির মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাই নতুন করে বাস্তবায়নের পথে যেতে পারে।
অর্থাৎ, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শুধু কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করছেন তা নয়, কখন খরচ করছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বিদ্যুতের বিলের ক্ষেত্রে।







