অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর পর তুরস্কের পাকিস্তানপ্রীতি ঘিরে ভারতে ব্যাপক জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে বিধ্বস্ত ভূমিকম্পে তুরস্ককে ভারত মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল—ত্রাণ, চিকিৎসা সামগ্রী ও বিশেষ দল পাঠিয়ে সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেই তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ভারতের জনমানসে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এরই জেরে দেশে তুরস্কের পণ্য বয়কট শুরু হয়েছে। গাজিয়াবাদ, পুনে সহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা তুরস্কের পণ্য বর্জন করছেন। হিমাচলের আপেল উৎপাদক সংঘ তুরস্ক থেকে আপেল আমদানির নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার বার্ষিক বাজার মূল্য প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। উদয়পুরে তুরস্কের মার্বেল আমদানি বন্ধ হয়েছে।
ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) তুরস্কে সিনেমার শুটিং বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও আজারবাইজানের হোটেল-রিসর্ট বুকিং ৬০% হ্রাস পেয়েছে, যা পর্যটন ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ধাক্কা।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় তুরস্কের ইনোনু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। শিবসেনা মুম্বাই বিমানবন্দরে তুরস্ক-সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। টিআরটি ও আজারবাইজানের একাধিক একাউন্ট ভারতে এক্স প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ হয়েছে।
স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিমান যোগাযোগ বন্ধ ও পর্যটন হ্রাসের দাবি জানিয়েছে। এই বয়কটের ফলে তুরস্কের অর্থনীতিতে প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।







