বোলপুর, বীরভূম: রুটি–রুজির খোঁজে দশ মাস আগে উত্তরপ্রদেশে গিয়েছিলেন বীরভূমের বোলপুর ব্লকের কসবা পঞ্চায়েতের দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতীক হেমব্রম। কিন্তু সেই যাত্রার মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল মৃত্যুতে। দিল্লি–কানপুর রেললাইনের মাঝখান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় এই ৩২ বছর বয়সী আদিবাসী যুবকের। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দলের একটি প্রতিনিধি দল কানপুরে পৌঁছায়। রাজ্যসভার সাংসদ ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, এবং নানুর বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি সহ তৃণমূল নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে প্রতীকের দেহ ফিরিয়ে আনা হয় নিজ গ্রামে।
বুধবার সকালে দামোদরপুরে দেহ পৌঁছতেই ভেঙে পড়ে গ্রামবাসী। বৃষ্টি আর কান্নায় ভিজে যায় গোটা এলাকা। স্থানীয় মানুষ ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন — “প্রতীক খুব শান্ত, পরিশ্রমী ছেলে ছিল। ওর দোষ শুধু একটাই — বাংলায় কথা বলত।”
নিহত প্রতীকের স্মৃতিতে ফুল-মালায় ভরে ওঠে গ্রাম। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দল ও রাজ্য সরকার নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে, এবং সমস্ত রকম সহায়তা করা হবে।
দিনের শেষে বোলপুরের মকরমপুর শ্মশানে আদিবাসী রীতি মেনে সম্পন্ন হয় প্রতীক হেমব্রমের শেষকৃত্য।
শোকস্তব্ধ দামোদরপুর আজও বিশ্বাস করতে পারছে না— শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্যই প্রাণ দিতে হলো তাদের ছেলেকে।






