বিনোদন

অমর প্রেম নাকি টক্সিক টানাপোড়েন? কৃতী–ধনুষের ‘তেরে ইশক মে’-তে সম্পর্কের দোলাচল

আনন্দ এল রাই পরিচালিত ‘তেরে ইশক মে’ প্রেমকে যেমন রোমাঞ্চের কুয়াশায় মুড়ে রাখে, তেমনই বারবার প্রশ্ন তোলে—এই ভালোবাসা কি আদৌ টেকসই, নাকি তার আড়ালে লুকিয়ে আছে টক্সিক টানাপোড়েন? ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুক্তি ও শঙ্কর—দু’জনের দুনিয়া, মানসিকতা ও সামাজিক অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। পিএইচডি-র ছাত্রীর দৃঢ়সঙ্কল্প জীবনে হঠাৎই ঢুকে পড়ে কলেজ-ক্যাম্পাসের দাদাগিরিতে বড় হওয়া, রগচটা কিন্তু আবেগী শঙ্কর।

শুরুর দিকের খুনসুটি, মজার মুহূর্ত আর দক্ষিণী স্টারডমের ছোঁয়ায় ধনুষের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শককে টেনে রাখে। সেখানেই কৃতীর সংযত অভিনয়ও মাখনের মতো মসৃণ। কিন্তু গল্প এগোতে এগোতেই স্পষ্ট হয় দু’জনের সম্পর্কের ভিত কতটা দুর্বল। সমাজ–পরিবার–স্বভাব—প্রতিটি স্তরেই যেন মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। শঙ্করের বেপরোয়া প্রেম, বিয়ের জন্য মরিয়া মানসিকতা ও মুক্তির বাবার কঠোর শর্ত মানতে তার অস্বাভাবিক লড়াই—সব মিলিয়ে পর্দায় বারবার উঁকি মারে অতিশয় নাটকীয়তা।

তবে ছবির সবচেয়ে বড় চমক টোটা রায়চৌধুরী। মেয়ের প্রতি কঠোর অথচ অন্তর্মুখী স্নেহে ভরা একজন বিত্তশালী বাবার ভূমিকায় তাঁর অভিনয় নিখুঁত। ‘রকি অউর রানি…’–র পর আবারও বলিউডে নিজের উপস্থিতি দৃঢ় করলেন তিনি।

বেনারসের গঙ্গা, ঘাট, মণিকর্ণিকার পটভূমি এবং রাইয়ের পরিচিত ক্যামেরা-ম্যাজিক ছবিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর গল্পের আবেগ বাড়ায়। তবে আধ্যাত্মিকতার ইঙ্গিত এবং কিছু অতিরঞ্জিত উপাদান চিত্রনাট্যকে মাঝে মাঝে অবাস্তবতার দিকে ঠেলে দেয়।

সব মিলিয়ে ‘তেরে ইশক মে’ প্রেমের উন্মাদনা দেখায় ঠিকই, তবে কোথাও কোথাও সেই ভালবাসার ছায়া এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে টক্সিসিটির গন্ধ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তবু কৃতী–ধনুষের অভিনয় ছবিকে শেষ পর্যন্ত টেনে রাখে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.