লিওনেল মেসির নাম মানেই স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে ভারতে নিয়ে আসার সাহসী উদ্যোগের সঙ্গে যে নামটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেল, তিনি শতদ্রু দত্ত। তিনি কোনও রাতারাতি তৈরি হওয়া চরিত্র নন। ভারতীয় ক্রীড়াজগতে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর উপস্থিতি ছিল ব্যাকএন্ডে—পরিকল্পনা, সমন্বয় ও আয়োজনের স্তরে। পেলে, মারাদোনা, রোনাল্ডিনহো—এই কিংবদন্তিদের ভারত সফরের নেপথ্য কারিগরদের তালিকায় তাঁর নাম আগেও ছিল।
কিন্তু ২০২৫ সালে চিত্রটা বদলে যায়। ‘GOAT India Tour’ শুধুই মেসিকে ঘিরে নয়, বরং এক নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের গল্প—যেখানে আয়োজকের নামও সামনে আসে। চার শহর জুড়ে কোটি টাকার স্বপ্ন, ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক আলোয় আনার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা শুরু হয়।
আর সেখানেই প্রথম বড় ধাক্কা।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই সন্ধ্যা আজও বিতর্কের কেন্দ্রে। হাতে বৈধ টিকিট, চোখভরা আশা—কিন্তু মাঠে মেসির দেখা মেলেনি বহু দর্শকের। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ—সব মিলিয়ে স্বপ্নভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা পায় সেই বিশৃঙ্খলার ছবি।
আজ প্রশ্নটা আর মেসিকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বোঝা গিয়েছিল কি না, তা নয়—কিন্তু সেই আবেগ সামলানোর মতো পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা কি যথেষ্ট ছিল? এই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে আসছে।
তবু এক সত্য অস্বীকার করা যায় না—এত উন্মাদনা ভারতীয় ফুটবলে বিরল। শুধুমাত্র এক ঝলক দেখার আশায় রাতভর অপেক্ষা করেছেন হাজার হাজার মানুষ। এই আগুন জ্বালাতে পারাটাও ছোট কৃতিত্ব নয়।
আজ শতদ্রু দত্ত দাঁড়িয়ে এক সন্ধিক্ষণে। এই অধ্যায় তাঁকে ইতিহাসে চিহ্নিত করবে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হিসেবে, না কি ভুল পরিকল্পনার প্রতীক হিসেবে—তা নির্ভর করবে তিনি এই ব্যর্থতা থেকে কী শিক্ষা নেন তার উপর। কারণ ফুটবলে যেমন দ্বিতীয় হাফ থাকে, তেমনই জীবনে থাকে কামব্যাকের সুযোগ।
এই গল্প শুধু মেসির নয়। এই গল্প ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও।







