ঘূর্ণিঝড় ‘দিটওয়া’-র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কার পাশে আবারও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ভারত। প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্রটির এই চরম বিপদে হাত বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লি শুরু করেছে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’। এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে করে আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাঠানোর পাশাপাশি প্রচুর ত্রাণসামগ্রীও পাঠিয়েছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার কলম্বোয় দাঁড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুঃসময়ে শ্রীলঙ্কার পাশে থাকতে পারা ভারতের জন্য গর্বের বিষয়। একইসঙ্গে দুর্গতদের সাহায্যার্থে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল আর্থিক প্যাকেজও ঘোষণা করেছেন তিনি।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ দূত হিসেবে দু’দিনের শ্রীলঙ্কা সফরে রয়েছেন জয়শঙ্কর। সেখানে শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে শ্রীলঙ্কা যখন সবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। জয়শঙ্কর আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নির্দেশে ভারত সরকার শ্রীলঙ্কার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। ঘোষিত এই ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে অত্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে, আর বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সাহায্যের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, হাইওয়ে, রেললাইন এবং সেতু মেরামতের মতো জরুরি পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে এই টাকা ব্যয় করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যখন শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হওয়ার পথে ছিল এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভে সরকার পতন হয়েছিল, তখনও ভারতই সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ সেই কঠিন সময়ে শ্রীলঙ্কার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল চীন। তবে সম্প্রতি চীন আবারও শ্রীলঙ্কাকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। যদিও বিপদের দিনে প্রকৃত বন্ধুর মতো ভারতের এই দ্রুত সক্রিয়তা এবং পরিকাঠামো গড়ার প্রতিশ্রুতি দ্বীপরাষ্ট্রটির মানুষের কাছে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।







