নাইজেরিয়ার পর এবার সিরিয়াতেও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল মার্কিন ফৌজ। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক ঝোড়ো অভিযানে খতম করা হয়েছে আইএসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ধিয়া জাওবা মুসলি আল-হারদানিকে। পেন্টাগন সূত্রের খবর, এই অভিযানে হারদানির দুই ছেলেও নিহত হয়েছে, যারা নিজেরাও এই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে সক্রিয়ভাবে নাশকতামূলক কাজ চালাত।
মার্কিন ফৌজের সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টিকম’ জানিয়েছে, সিরিয়ার বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সর্বাত্মক হামলা চালানো হয়েছে। হারদানির দুই ছেলে আবদুল্লাহ ও আবদ আল-রহমানও এই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। গত বড়দিনেই নাইজেরিয়ায় আইএসের ডেরায় হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিরিয়াতে অপারেশন চালিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল তারা। এমনকি বড়দিনের অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। গত ডিসেম্বরেই বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সেখানে এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সরকারের প্রধান আল-শারা মে মাসেই রিয়াধে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, যার ফলে সিরিয়ার ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোও শিথিল করা হয়েছে। রাজধানী দামাস্কাসসহ দেশের বেশিরভাগ অংশ নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, কিছু পকেটে এখনও আইএসের আধিপত্য রয়ে গেছে। মূলত সেই অবশিষ্টাংশটুকু নির্মূল করতেই পেন্টাগন এখন মরিয়া। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমেরিকা যে কতটা তৎপর, তা এই ঘনঘন অভিযানগুলো থেকেই পরিষ্কার। সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আমেরিকার এই সখ্যতা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তায় বড় কোনো বদল আনে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







