খেলাধুলা

সিরাজ-ঝড়ে ধূলিসাৎ বাংলার টপ অর্ডার লজ্জার হারেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন ঈশ্বরণরা

বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলার দৌড় শেষ হয়ে গেল একরাশ হতাশা নিয়ে। মঙ্গলবার হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। ১০৭ রানের এই বিশাল ব্যবধানে হার কেবল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করল না, বরং বাংলার দুঁদে বোলিং আক্রমণের কঙ্কালসার চেহারাটাও সবার সামনে এনে দিল।

এদিন মাঠের সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন হায়দরাবাদের বছর একুশের তরুণ তুর্কি আমন রাও। ভারতের জার্সি গায়ে খেলা মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ কিংবা মুকেশ কুমারদের পাড়ার বোলারের পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন তিনি। শামিদের পিটিয়ে ১৫৪ বলে অপরাজিত ২০০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন এই ওপেনার। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মেরে যখন নিজের দ্বিশতরান পূর্ণ করলেন, তখন হায়দরাবাদের স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৩৫২ রান। আমেরকার জন্ম নেওয়া এই তরুণ এদিন যে মেজাজে ব্যাট করলেন, তাতে অভিজ্ঞ শামি-শাহবাজদের অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। আমনের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ১৩টি ছক্কার বাহার। হায়দরাবাদের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে কেউ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

৩৫৩ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলার ব্যাটিং। যখন দলের স্কোর মাত্র ৫০, তখনই সাজঘরে ফিরে গেছেন প্রথম সারির ৪ জন ব্যাটার। বাংলার টপ অর্ডারকে একাই ধসিয়ে দিলেন মহম্মদ সিরাজ। সিরাজের আগুনে বোলিংয়ে সুমিত নাগ, সুদীপ ঘরামি আর অধিনায়ক ঈশ্বরণরা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল লজ্জাজনকভাবে হারবে বাংলা। সেখান থেকে অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ মজুমদার (৫৯) আর শাহবাজ আহমেদ দলের হাল ধরেন।
শাহবাজ এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক সেঞ্চুরি (১০৮ অপরাজিত) করলেও উল্টো দিক থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি। শেষ পর্যন্ত ৪৪.৪ ওভারে ২৪৫ রানেই থেমে যায় বাংলার ইনিংস। বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলার হারের ক্ষত আরও বাড়িয়ে দেন সিরাজ। ঘরের মাঠে অন্যতম শক্তিশালী বোলিং বিভাগ থাকা সত্ত্বেও এভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াটা নিশ্চিতভাবেই লক্ষ্মীরতন শুক্লর দলের জন্য বড় ধাক্কা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.