কাল থেকে শুরু হয়েছে ডব্লুপিএল। মাঠের লড়াই শুরুর আগে ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম মেতেছিল হানি সিং আর জ্যাকলিনদের গ্ল্যামারে। কিন্তু আসর ভাঙতেই নভি মুম্বইয়ের বাইশ গজে শুরু হলো অন্য এক রোমাঞ্চ। এক সময় যে ম্যাচ স্মৃতি মন্ধানাদের হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল, শেষ ওভারের মরণকামড় দিয়ে সেই ম্যাচই ছিনিয়ে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ১৮ রান। অভিজ্ঞ ন্যাট শিভার ব্রান্টের ওভার থেকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন নাদিন ডি ক্লার্ক। স্মৃতির দলের ৩ উইকেটের এই জয় ডব্লিউপিএল-এর চতুর্থ মরসুমের শুরুতেই এক তীব্র বারুদ মিশিয়ে দিল।
টস জিতে স্মৃতির ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরুর দিকে সার্থক মনে হলেও, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন সাজীবন সজনা ও নিকোলা ক্যারে। বিশেষ করে সজনার বিধ্বংসী ৪৫ ও ক্যারের ৪০ রানের সৌজন্যে মুম্বই স্কোরবোর্ডে ১৫৪ রান তুলে ফেলে। মাঝপথে হরমনপ্রীত ও কমলিনী কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও মুম্বইয়ের লড়াকু পুঁজি নিশ্চিত করে সজনা-ক্যারের ৪৯ বলে ৮২ রানের অবিচ্ছেদ্য পার্টনারশিপ।
রান তাড়া করতে নেমে বেঙ্গালুরুর অবস্থা এক সময় দাঁড়িয়েছিল ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। স্মৃতি (১৮) ও গ্রেস হ্যারিস (২৫) দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর মাত্র ৬৫ রানে অর্ধেক দল ড্রেসিংরুমে। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ডি ক্লার্ক। অরুন্ধতী রেড্ডিকে (২০) সঙ্গে নিয়ে তিনি যখন পাল্টা লড়াই শুরু করেন, তখন গ্যালারিতে কেবলই উৎকণ্ঠা। ম্যাচ জেতার জন্য শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য ১৮ রান দরকার ছিল। স্ট্রাইকিং এন্ডে থাকা ডি ক্লার্ক মাথা ঠান্ডা রেখে ন্যাট শিভার ব্রান্টের বোলিং নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করলেন। অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তিনি আজ এত দামি। হরমনপ্রীত কৌরের জন্য এই মাঠটা যেন একরাশ হতাশার ঠিকানা হয়ে রইল। দু’মাস আগে এই মাঠেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন, আর শুক্রবার ডব্লিউপিএল-এর উদ্বোধনী রাতেও তাঁকে মাঠ ছাড়তে হলো হারের গ্লানি নিয়ে। অন্যদিকে, ডি ক্লার্কের ব্যাটে চড়ে মরসুমের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেল বেঙ্গালুরু।







