মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ তীব্রতর হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা। তারই সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বেও। কলকাতায় এসে কার্যত ‘আটকে’ পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেট দল। এক-দু’দিন নয়, টানা পাঁচদিন ধরে শহর ছাড়তে পারছেন না ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, সেই নিয়েও কোনও স্পষ্ট বার্তা নেই। ফলে ক্রমেই বাড়ছে তাঁদের মানসিক উদ্বেগ।
কলকাতার হোটেলেই এখন কার্যত বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলের সদস্যদের। পরিবারের থেকে দূরে দীর্ঘদিন কাটানোর পর দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা তাঁদের সেই প্রত্যাবর্তনের পথ আটকে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দলের কোচ Darren Sammy সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, “I just want to go home…”—এই কয়েকটি শব্দেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর মানসিক অবস্থা।
কিছু ঘণ্টা পরই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জি জানান তিনি। লিখেছেন, “অন্তত একটা আপডেট দেওয়া হোক। আজ ফিরব, কাল ফিরব নাকি আগামী সপ্তাহে—আমাদের কিছু তো জানানো হোক। পাঁচদিন হয়ে গেল।”
স্যামির এই পোস্ট অনেকেরই সহানুভূতি কেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার Herschelle Gibbs মন্তব্য করে লিখেছেন, মাঠের বাইরের লড়াই অনেক সময় মাঠের লড়াইয়ের থেকেও কঠিন হয়ে ওঠে।
এদিকে, প্রায় এক মাস ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে তাঁরা এসেছিলেন কলকাতায়। ১ মার্চ ইডেন গার্ডেন্সে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে জয় পেলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হত ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের। কিন্তু কানায় কানায় ভর্তি গ্যালারির সামনে Suryakumar Yadav-এর নেতৃত্বে ভারতীয় দল সেই ম্যাচ জিতে নেয় এবং সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচের পরদিনই নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলের। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
বর্তমানে কলকাতার হোটেলেই অবস্থান করছেন Shimron Hetmyer, Jason Holder, Shai Hope, Sherfane Rutherford এবং Roston Chase-রা। বুধবার দলের কয়েকজন ক্রিকেটার Eden Gardens-এ গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজ়িল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচও দেখেছেন।
তবে মন যে মাঠে নেই, তা স্পষ্ট। এখন তাঁদের একটাই অপেক্ষা—কবে খুলবে আকাশপথ, আর কবে তাঁরা ফিরতে পারবেন নিজের দেশে, নিজের পরিবারের কাছে।







