বাঁকুড়ার ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আগে হঠাৎই নাটকীয় মোড়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শিবির বদল করলেন রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টির ঘোষিত প্রার্থী গোলাম খাজা খান। শুধু দলবদলই নয়, শেষমেশ ভোটের ময়দান থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওন্দার রাজনৈতিক মহলে।
এক সময় বাম শরিক ফরোয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল ওন্দা। তবে ২০১১ সালের পর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। পরপর দু’বার এই কেন্দ্রে জয় পায় তৃণমূল। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ায় বিজেপি এবং আসনটি নিজেদের দখলে নেয়। ফলে এবারের নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে ছিল রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টি ওন্দা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে পুনিশোল গ্রামের বাসিন্দা গোলাম খাজা খানকে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাবশালী এই গ্রামের গুরুত্ব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হয়।
প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন গোলাম। কিন্তু হঠাৎই মনোনয়ন জমার আগের রাতে সব হিসাব পাল্টে যায়।বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্তের হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নেন গোলাম। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর অবস্থান বদলের ইঙ্গিত। পরবর্তীতে তিনি জানিয়ে দেন, আর ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হয়ে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটের আগে এমন অপ্রত্যাশিত দলবদল ও প্রার্থী সরে দাঁড়ানো—ওন্দার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







