রাজনীতি

নারী সংরক্ষণ বিলে কৃতিত্ব নিয়ে তরজা, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নিশানায় নরেন্দ্র মোদি সরকার: “ইতিহাস ভুলে রাজনীতি নয়”

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্পষ্ট বার্তা দিলেন—এই বিল কেবল রাজনৈতিক কৃতিত্বের বিষয় নয়, বরং নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, নারীদের জন্য সংরক্ষণের ধারণার শিকড় বহু পুরনো।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বান্দ্রা দাবি করেছেন, এই উদ্যোগের সূত্রপাত করেছিলেন মতিলাল নেহরু, যিনি ১৯২৮ সালে তাঁর প্রস্তাবে মৌলিক অধিকারের মধ্যে নারীর সমান অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশনেও সেই ভাবনাই প্রতিফলিত হয়। তাঁর কথায়, “ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোয় নারীর সমান অধিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিল বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” বর্তমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃতিত্ব না চাইলেও, বাস্তবে নারীদের বিভ্রান্ত করা সহজ নয়। তাঁর অভিযোগ, নারী সংরক্ষণ বিল কোনও একক দলের সাফল্য নয়। বরং বহু দশকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

তিনি আরও তুলে ধরেন যে, রাহুল গান্ধী ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দ্রুত এই বিল কার্যকর করার দাবি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি সোনিয়া গান্ধী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বে ২০১০ সালে রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হলেও লোকসভায় তা আটকে যায়। প্রিয়াঙ্কার দাবি, পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের পথও দেখিয়েছিল রাজীব গান্ধী-র নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এই বিলের বিরোধিতা করেছিল বিজেপিই। বক্তৃতার সময় শাসকদলের সাংসদদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে লোকসভায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র আকার নিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.