পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের অনেকের কাছেই পৌঁছায়নি বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, বহু ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ সেই সুবিধা পেয়েছেন প্রভাবশালী বা অসাধু ব্যক্তিরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি অর্থ ও প্রকল্পের সুবিধা যাতে কোনওভাবেই ভুয়ো উপভোক্তা বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় শিবিরের উদ্বোধন করে তিনি এই বার্তা দেন। পাশাপাশি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।
নন্দীগ্রামের দীর্ঘদিনের রেল সংযোগের দাবি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এলাকার মানুষ রেল পরিষেবার সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার আবহে যাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তাঁদের হয়রানি বন্ধ করার নির্দেশও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্দোষ ব্যক্তিদের এই ধরনের মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
পানীয় জল প্রকল্প নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক হওয়ায় পূর্বতন সরকার রাজনৈতিক কারণে এলাকার মানুষকে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেছিল।
এদিন বিভিন্ন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্তির রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-য় নতুন করে আবেদন ও নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ মিলবে।
আবাস যোজনার তালিকা বা সমীক্ষা প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সরাসরি সরকারের কাছে তা জানানোর জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী জুলাই মাস থেকে উপভোক্তাদের হাতে ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ হতে চলা নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও বিশেষ চমক থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া রাজ্যের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বৃহত্তর কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাস দেন তিনি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার বিকাশে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে সরকারি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।







