তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নদিয়ার জেলা পরিষদের সদস্য টিনা সাহার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পর এবার তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন সব্যসাচীর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্ত। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সম্পত্তি সংক্রান্ত আরও তথ্যের সন্ধানে ইন্দ্রানীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, সব্যসাচীর নিরাপত্তারক্ষী, দুই চালক-সহ একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকেও তলব করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার রাতে সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়ার করিমপুরে টিনা সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখানে প্রায় তিন কেজির বেশি সোনা উদ্ধার হয়, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের। এর আগে সব্যসাচীর বাড়ি থেকেও বিপুল পরিমাণ সোনা কেনাবেচার নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, ইন্দ্রানী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট প্রায় ৩.৭০ কোটি টাকা রয়েছে। এই বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সব্যসাচীর দাবি, তাঁর স্ত্রী পেশায় ব্যবসায়ী এবং বৈধ ব্যবসা থেকেই এই আয় হয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ইন্দ্রানী দত্তের আয় ছিল প্রায় ৪৭.২৬ লক্ষ টাকা। ২০২১-২২ সালে তা ছিল প্রায় ৪৪.১১ লক্ষ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৮.৭২ লক্ষ টাকায়। স্থাবর সম্পত্তির মূল্যও প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইন আনার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবহে সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।







