এমনিতেই বিধানসভার চলতি অধিবেশনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলিই এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে সরব। শাসক শিবির এক বিরোধী পক্ষকে নিশানা করলে অন্য পক্ষের বিরোধীরা তাতে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। আবার বক্তৃতার সময় শাসকের সমালোচনার বদলে বিরোধী বিধায়কদের একাংশকে দেখা যাচ্ছে অন্য বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে। এই আবহেই বৃহস্পতিবার বৃষ্টিভেজা দুপুরে বিধানসভার অলিন্দে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
সকালে তারাতলার দুর্ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্য শেষ করে তিনি যখন নিজের কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণালকে দেখে থেমে যান মুখ্যমন্ত্রী। দু’জনের মধ্যে কয়েক মিনিট ধরে কথাবার্তা হয়। আর সেই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ নিয়েই শুরু হয় নানা আলোচনা।
বিধায়কদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কী নিয়ে কথা হল মুখ্যমন্ত্রী ও কুণাল ঘোষের? এমন কী বিষয় ছিল, যার জন্য কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী? এই জল্পনার পিছনে অবশ্য আরও একটি কারণ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার অধিবেশন কক্ষে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য বহু বিধায়কের নজর এড়ায়নি। তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেন। ফিরহাদের স্বাক্ষর করা নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের নথি দেখিয়ে তিনি বলেন, “একজনকেও ছাড়ব না, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সেই সময় কুণাল ঘোষকে টেবিল চাপড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করতে দেখা যায়। এই ঘটনাই বিশেষভাবে রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রসঙ্গত, ফিরহাদ হাকিম বর্তমানে ঋতব্রত শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কিছুদিন আগে অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, “তৃণমূলে যারা এখনও নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদের ছেড়ে দেবেন না স্যার।” এরপর ফিরহাদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন এবং তারপর দু’জনের পৃথক বৈঠক—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।







