ত্রিপুরার পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য। আগরতলার পুলিশ সদর দফতর থেকে ত্রিপুরার ডিজিপি অনুরাগ ধনকড়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, নিজের সার্ভিস পিস্তল থেকেই গুলি চালানো হয়েছিল। তবে কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
পুলিশের বক্তব্য
১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অনুরাগ ধনকড়। ডিজিপি হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোমবার তিনি আগরতলার পুলিশ সদর দফতরে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তাঁর কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে আগরতলার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল কী জানাল?
হাসপাতালের চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক জানান, দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ অনুরাগ ধনকড়কে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাঁর শরীরে কোনও প্রাণের স্পন্দন ছিল না। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হলেও তাঁকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২০২৫ সালের মে মাসে অনুরাগ ধনকড় ত্রিপুরার ডিজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি অমিতাভ রঞ্জনের স্থলাভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি ত্রিপুরা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ইন্টেলিজেন্স) পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সিবিআই-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর। একাধিক বহুচর্চিত মামলার তদন্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জন্য তিনি ত্রিপুরা পুলিশের অন্যতম অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।







