খেলাধুলা

তারুণ্যের লড়াইয়ে রুখে গেল মোহনবাগান, বিলালদের দাপটে ফের চাপে সবুজ-মেরুন

এই ম্যাচ ঘিরে যে এতটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা দেখে হয়তো কেউ ভাবতেই পারেননি শেষ পর্যন্ত ছবিটা এমন হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচের আগে কম রণহুঙ্কার শোনা যায়নি। কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই দেখার পর একটা কথা স্বীকার করতেই হবে—ডুরান্ডে হারের পর ফের একবার তরুণ ইস্টবেঙ্গলের কাছে কার্যত আটকে গেল মোহনবাগান। শুধু আটকে যাওয়াই নয়, গোল হজম করার পর সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়ল লাল-হলুদ। সিনিয়র দলের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে এই ফল নিঃসন্দেহে কুর্নিশ পাওয়ার মতো। বিলালদের মানসিক দৃঢ়তাকে তাই আলাদা করে প্রশংসা করতেই হয়।

কলকাতা লিগের শুরু থেকেই নজর কেড়েছেন ইস্টবেঙ্গলের তরুণ ফুটবলাররা। চাকু মান্ডি, গৌরব সাউ, মনোতোষদের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই দলকে সুপার সিক্সে তুলে দিয়েছে। ফলে এই ম্যাচের ফল নিয়ে লাল-হলুদের উপর বাড়তি চাপ ছিল না। অন্যদিকে মোহনবাগানের কাছে পরিস্থিতিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কয়েক দিন আগেই ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল তারা। সেই হারের বদলা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মর্যাদা ফেরানোর তাগিদও ছিল সবুজ-মেরুনের। কিন্তু মাঠে সেই বাড়তি তাগিদ খুব একটা দেখা গেল না।

রাহুল ভেকে, আপুইয়া, মণবীর সিং, সাহালের মতো সিনিয়র ফুটবলাররা মাঠে থাকলেও সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হল মোহনবাগান। সুযোগ পাওয়া এবং সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করা যে এক জিনিস নয়, এদিন সেটাই বারবার প্রমাণিত হল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সবুজ-মেরুনের আক্রমণ যেন একেবারেই গতি হারিয়ে ফেলল।

অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের তরুণরা দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিলেন। তন্ময়, অঙ্কনদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। বড় দলের বিরুদ্ধে একঝাঁক তরুণ ফুটবলারের এই লড়াই নিঃসন্দেহে লাল-হলুদের জন্য ইতিবাচক দিক। যদিও ৩৭ মিনিটে অঙ্কন ও গৌরবের সমন্বয়ের অভাবের সুযোগ নিয়ে গোল করে মোহনবাগান। ডুরান্ড ডার্বির পর ফের সবুজ-মেরুনের হয়ে গোল করলেন মণবীর সিং।

তবে সেই গোলের পরেও ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি। বরং সুযোগ তৈরি করেছে, আক্রমণ করেছে। কয়েকটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছয়নি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে সেই পরিশ্রমেরই ফল মেলে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন মহম্মদ বিলাল। সমতা ফেরার পর যেন আরও বেশি চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। আক্রমণভাগের একের পর এক ব্যর্থতা চোখে পড়ে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি।

এই ম্যাচের পর কলকাতা লিগের সুপার সিক্স পর্বে খেলবে দুই প্রধান। সেখানে আর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই তাদের। তিনটি করে ম্যাচ খেলবে দুই দল। তবে এই ম্যাচ একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। মোহনবাগান যেখানে সিনিয়র দলের কোচ প্যানোস দিলমপেরিসকে দিয়ে দলকে পরিচালনা করাল, সেখানে ইস্টবেঙ্গলের সেই ধরনের কোনও ‘ফ্যাশন’ ছিল না। তাদের ভরসা ছিল তরুণ বাঙালি ফুটবলারদের উপর। আর তাঁরাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন।

আইএসএল এখনও শুরুই হয়নি। প্রতিযোগিতা শুরু হলে মোহনবাগানের গোলের সামনে সুযোগ নষ্ট করার এই সমস্যা কতটা কাটে, সেটাই এখন দেখার। কারণ সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। রাস্তা যে এখনও অনেকটাই বাকি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.