ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকে রোহিনী তে বাড়ি তুলী দাসের, ছোটোবেলা থেকেই তুলির ছবি আঁকার প্রতি এক আলাদা আকর্ষণ আছে, তা বুঝতে দেরি করেননি তার বাবা উত্তম দাস। তাই ছবি আঁকা শেখাতে শিক্ষক অলক দাস এর কাছে ছোটবেলা থেকেই ভর্তি করেন তার বাবা। তুলির মধ্যে যে একটি ব্যাপার রয়েছে তা বুঝেছিলেন শিক্ষক, নানান জায়গায় কম্পিটিশনে গেলে তুলির হাতের তুলি প্রশংসা এনে দিয়েছে সমস্ত জায়গা থেকেই।
তুলির এই প্রতিভাকে সম্মান জানিয়েছে সরকারি মহলের নানান অফিসাররাও। কিছুদিন আগে অল বেঙ্গল সোসাইটি ও বিজয় ৭১ এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ছবিমেলা অনুষ্ঠিত হয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলার বেশ কিছু প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী আমন্ত্রিত হন, আর তাদের মাঝেই
তুলির প্রতিভাকে নজরে রেখে আন্তর্জাতিক ছবি মেলাতে তুলিকে ও আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হয় তুলীকে, তুলির আঁকা ছবি দেখে প্রশংসা পঞ্চমুখ হন বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পীরা। পাশাপাশি নেপালে যাওয়ার ও সুযোগ হয় তার, কে জানত ঝাড়গ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে তুলি তার আঁকা ছবি নিয়ে নানান দেশ-বিদেশে আমন্ত্রিত হবে। নানান সময়ে তুলির আঁকা ছবি খবরের শিরোনামেও উঠে এসেছে ইতিমধ্যে।
তুলি নিজের ছবি নিয়ে ভবিষ্যতে আরো বড় জায়গায় এগিয়ে যেতে চায়, আর তার প্রতিটা স্বপ্ন পূরণ যাতে হয় তুলির বাবা উত্তম দাস মেয়েকে সেভাবেই তৈরি করতে চান’ চান পাশে থাকতে।
উত্তম দাস গোপীবল্লভপুর ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের এলটি ভ্যানে কন্ট্রাকচুয়াল স্কিল ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করেন।সামান্য বেতন হলেও যতটা পারেন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, তাই আন্তর্জাতিক ছবি মেলা থেকে তুলি সম্মানিত হওয়ার পর কুলটিকরী আর্থ কেয়ার সোসাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন -এ এসে বেশ কিছু গাছ লাগান ও ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই খাতা পেন তুলে দেন।
তুলির এই সাফল্যকে বাহবা দেন আর্থ কেয়ার এর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক কবি ও সাহিত্যিক প্রদীপ কুমার মাইতি, পরিবেশপ্রেমী প্রাক্তন শিক্ষক গৌর সাধন দাস চক্রবর্তী,কবি ও সমাজসেবী তপন দে, শিক্ষক সুমন মন্ডল, বিষ্ণু মুরমু সহ ছাত্র-ছাত্রীরা।






