সোমবার সন্ধ্যেতে ভবানীপুরে বিজয়া সম্মিলনী উদযাপন অনুষ্ঠানে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়েও তিনি কেন্দ্র এবং বিরোধীদলকে নিশানা করে বেশকিছু মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলায় বলা হয় বারো মাসে তেরো পার্বন। সব ধর্মের মিলন মেলা যদি বলেন তাহলে বাংলাকে দেখে বোঝা যায়।
দেশের স্বাধীনতা কারা এনেছিলো? যদি সেলুলার জেলে যান তাহলে দেখবেন সবচেয়ে বেশি নাম আছে বাঙালিদের। তারপর আছে পাঞ্জাবী শিখদের নাম। সবাইকে নিয়ে বাংলা চলে।
আমরা বাংলায় বিজয়া সম্মিলনী করি। যা অন্যান্য রাজ্যে হয় না। রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটায় এই বিজয়া সম্মিলনী হচ্ছে।
দুর্গা পুজোয় আমাদের প্রশাসন খুব ভালো কাজ করেছেন। তারা নিজেদের পরিবারকে সময় না দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পরিবারকে সময় দিয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই তাদের।
তিনি আরোও জানান, আমার পায়ে একটা চোট আছে, সেই কারণে আমি ভার্চুয়ালি পুজোর উদ্বোধন করেছি। বারোশো পুজোর উদ্বোধন করেছি। এটা রেকর্ড। জেলার প্রতিটি প্যান্ডেল ভালো করেছে।তারা কিন্তু ববি, অরুপ দের পূজোকে হারিয়ে দিয়েছে।
এবার আমি সারা দেশের ১৪০ টি পুজোকেও মিষ্টি মুখ করতে মিষ্টি পাঠিয়েছি। আমি ভাবছি যে সামনের বছর সারা বিশ্বের যেখানে যেখানে পুজো হয় সবাইকে বিজয়ার মিষ্টি পাঠাবো।
সন্ধ্যা দির সাথে যখনই আমার ফোনে কথা হতো তখনই বলতেন আমাকে দুই লাইন শোনাও। আমি বলতাম আমি গান জানি না। তখন সন্ধ্যা দি বলতেন তুমি গান না গাইলে আমি ফোন রেখে দেবো। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমি অন্ধকারের যাত্রী তুমি আলোর দৃষ্টি দাও গেয়েছিলাম।
আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম তখন লতাজী আমাকে একটা মা কালীর ছবি পাঠিয়েছিলেন। সেটা আমি আজো রেখে দিয়েছি। আমি ছোটোবেলায় তিনবছর গান শিখেছিলাম। তারপর আর শিখতে পারি নি। আমার হারমোনিয়াম টা বিক্রি করে দিয়েছিলো।
কার্নিভালের দিক থেকে ব্রাজিলকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে এবারের বাংলার কার্নিভাল।
আমি আন্দোলন করতে ভালোবাসি, ঝগড়া করতেও ভালোবাসি, অপ্রিয় সত্য কথা বলতেও ভালোবাসি।
কাল আমি মরে গেলে দেখবেন ওরা যারা আমার নামে গালি দেয় তারা প্রথম মালা নিয়ে ঢুকবে। একটাকেও ঢুকতে দেবে না। আমি বলে গেলাম। আমি নিজের নামে কিচ্ছু করি নি, স্টেডিয়াম ও করি নি।
তিনি নিশানা করে কেন্দ্রকেও। তিনি বলেন ১০০ দিনের কাজের টাকা দেয় নি। বাংলার আবাস যোজনার টাকা দেয় নি। আবার এখন বলছে ঘর ঘর মে জল। আমরা ৪০ শতাংশ দিই, ওরা ৬০ শতাংশ দেয়।তাতেও বলে সব ওরা করছে। যদি ইসরো কিছু করে তাতেও বলে ওরা করেছে। আমি যদি মুখ খুলি তাহলে…..
আমি চাই না আমার কোনও কথা নিয়ে বিদেশে আমার দেশের বদনাম হোক।
আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এক টাকাও নিই না। আমি কেন্দ্রের মন্ত্রী ছিলাম, সেখান থেকে পেনশন নিই না। আমি সাংসদ হিসাবেও পেনশনের টাকা নিই না। আমার যা রোজগার তা ওই বই বিক্রি করে রয়ালটি থেকে যা পাই। যদি সব কিছু নিতাম তাহলে আমার তো এখন ৪০/৫০ কোটি টাকা জমানোর কথা।
এক কোটি রেশন কার্ড আমরা বাদ দিয়েছি। কারণ ওই এক কোটি রেশন কার্ডে ফলস চাল তোলা হতো, ভোট দেওয়া হতো বাম আমলে। আমার তো সাত আট বছর চলে গেছে এই এক কোটি ফলস রেশন কার্ড বাতিল করতে গিয়ে। অনেকে রেশন তোলেন না। তাদের জন্যে আলাদা সাদা রংয়ের কার্ড করে দিয়েছি। যাতে কখনও না এসে বলে যে আপনারা ভারতীয় নন।
এরপর তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, আপনারা আমার এই লড়াইয়ের সঙ্গে আছেন তো ? বাংলার সঙ্গে আছেন তো ? যত লড়াই আসে আসুক, যত সংগ্রাম আসে আসুক।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফোঁস করাটা আমাদের অধিকার।







