সবাই জানত টেস্ট পরীক্ষায় বসেছে। উত্তীর্ণও হয়েছে। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করবে। আশাবাদী ছিল পরিবার। কিন্তু, প্রতীক্ষিত সেই মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের রাতেই আত্মঘাতী বছর ষোলোর মেয়েটা। ঘর থেকে উদ্ধার হল ঝুলন্ত দেহ। পাওয়া গেল সুইসাইড নোটও। স্পষ্ট লেখা, “বাবা-মা আমি তোমাদের মিথ্যা কথা বলেছি।
আমি পরীক্ষা দিইনি। তাই এ কাজটা করা ছাড়া আর কিছু বুঝতে পারিনি। ও হ্যাঁ, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” সঙ্গে আবার মায়ের ফোনের পাসওয়ার্ডও লেখা।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে হাসনাবাদ থানার পূর্ব শুলকুনি গ্রামে। পুলিশ জানাচ্ছে মৃত ছাত্রীর নাম রেখা মণ্ডল (১৬)। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নাবালিকা এই কাণ্ড করেছে বলে পরিবারের সদস্যদের অনুমান। এদিন বিকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের মধ্যে রেখাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাকে নামানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এরপরই খবর যায় পুলিশ। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন হাসনাবাদ থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানো হয় হাসপাতালে।
পূর্ব শুলকুনি গ্রামের বাসিন্দা মদন মণ্ডলের মেয়ে রেখা। কিন্তু, কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন থেকে স্ত্রীকে নিয়ে ভিনরাজ্যে থাকেন। ঠাকুমা-দাদুর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকত তাঁদের মেয়ে। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করত। এবারই তার মাধ্যমিক দেওয়ার কথা ছিল। মেয়ের পরীক্ষার জন্য মা-বাবা বাইরে থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরেও আসেন। কিন্তু, মেয়ে যে শেষ পর্যন্ত এই কাজ করে ফেলবে তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। শোকের ছায়া নেমেছে গোটা পরিবারে।







